ঢাকা: বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে তাঁর প্রয়াত স্বামী, বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের কবরের পাশেই সমাধিস্থ করা হবে। বুধবার দুপুর ২টায় (বাংলাদেশ সময়) ঢাকার জাতীয় সংসদ ভবন সংলগ্ন জিয়া উদ্যানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছে বিএনপি।
দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মঙ্গলবার এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানান, খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফন উপলক্ষে দলীয় নেতা-কর্মীদের শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। শেষকৃত্যে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সরকার খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক এবং এক দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, খালেদা জিয়ার মরদেহ বহনকারী গাড়ির নিরাপত্তায় প্রায় ১০ হাজার পুলিশ সদস্য, যার মধ্যে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদস্যরাও থাকবেন, মোতায়েন করা হবে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সেনাবাহিনীর সদস্যরাও নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন।
তিনি আরও জানান, খালেদা জিয়ার জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য, কূটনৈতিক প্রতিনিধিসহ দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন। সম্প্রতি সংসদ ভবন এলাকায় বড় পরিসরে জানাজা অনুষ্ঠিত হলেও, খালেদা জিয়ার জানাজা তার চেয়েও বৃহৎ পরিসরে আয়োজন করা হচ্ছে।
খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বাংলাদেশে উপস্থিত থাকবেন বলেও জানানো হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় এই শেষ বিদায়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
