Fighters of the Syrian Democratic Forces (SDF) attend a joint military exercise with forces of the US-led "Combined Joint Task Force-Operation Inherent Resolve" coalition against the Islamic State (IS) group in the countryside of the town of al-Malikiya (Derik in Kurdish) in Syria's northeastern Hasakah province on September 7, 2022. (Photo by Delil SOULEIMAN / AFP) (Photo by DELIL SOULEIMAN/AFP via Getty Images)
  • বছরশেষের মধ্যে এসডিএফ একীভূতকরণের লক্ষ্য

  • সাম্প্রতিক দিনে সিরিয়া, এসডিএফ ও যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা ত্বরান্বিত

  • এসডিএফ পুনর্গঠনে দামেস্কের নীতিগত সম্মতি

  • তিনটি ডিভিশনে বাহিনী গঠন ও এলাকা উন্মুক্ত করার প্রস্তাব

  • সংঘর্ষের ঝুঁকি শান্তি প্রক্রিয়া ব্যাহত করতে পারে, টানতে পারে তুরস্ককে

দামেস্ক: বছরশেষের সময়সীমা ঘনিয়ে আসায় সিরিয়া সরকার, কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) এবং যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা একটি স্থবির একীভূতকরণ চুক্তিতে অগ্রগতি দেখাতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন। আলোচনার সঙ্গে যুক্ত বা অবগত একাধিক সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

সূত্রগুলো জানায়, বিলম্ব নিয়ে হতাশা বাড়লেও সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আলোচনা ত্বরান্বিত হয়েছে। তবে বড় ধরনের অগ্রগতি হওয়ার সম্ভাবনা কম বলেও সতর্ক করেছেন কয়েকজন। তবু একজন এসডিএফ কর্মকর্তা বলেন, “আমরা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে চুক্তির কাছাকাছি।”

অন্তর্বর্তী সিরিয়ান সরকার উত্তর-পূর্বাঞ্চল নিয়ন্ত্রণকারী এসডিএফের কাছে একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে বলে পাঁচটি সূত্র জানিয়েছে। এতে প্রায় ৫০ হাজার যোদ্ধাকে তিনটি প্রধান ডিভিশন ও ছোট ব্রিগেডে পুনর্গঠনের বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মতির কথা জানানো হয়েছে—শর্ত হলো, এসডিএফকে কিছু কমান্ড কাঠামো ছাড়তে হবে এবং তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সিরিয়ান সেনাবাহিনীর অন্যান্য ইউনিট প্রবেশের সুযোগ দিতে হবে।

তবে এই ধারণা বাস্তবায়ন হবে কি না, তা স্পষ্ট নয়। এক পশ্চিমা কর্মকর্তা বলেন, সম্ভাব্য কোনো ঘোষণা মূলত “সম্মান রক্ষা”, সময়সীমা বাড়ানো এবং এক বছর আগে সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পতনের পরও নাজুক থাকা দেশটির স্থিতিশীলতা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে হতে পারে। অধিকাংশ সূত্রের মতে, ১০ মার্চের চুক্তিতে যে বছরশেষে পূর্ণ একীভূতকরণের কথা বলা হয়েছিল, বাস্তবে তা পূরণ হওয়া কঠিন।

চুক্তি ভেস্তে গেলে সিরিয়ার গভীর বিভাজন সশস্ত্র সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে, যা ১৪ বছরের যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করবে এবং কুর্দি বাহিনীকে “সন্ত্রাসী” আখ্যা দিয়ে হস্তক্ষেপের হুমকি দেওয়া প্রতিবেশী তুরস্ককেও টেনে আনতে পারে।

উভয় পক্ষই একে অপরকে বিলম্ব ও অসৎ উদ্দেশ্যের অভিযোগ করেছে। যুদ্ধকালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান মিত্র হিসেবে এসডিএফ যে স্বায়ত্তশাসন অর্জন করেছিল, তা ছাড়তে তারা অনিচ্ছুক। অন্যদিকে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আরব-অধ্যুষিত এলাকায় বাধ্যতামূলক নিয়োগসহ নানা কারণে এসডিএফের শাসনের বিরুদ্ধে অসন্তোষ বেড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র—যারা প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার অন্তর্বর্তী সরকারকে সমর্থন দিচ্ছে—দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান, আলোচনা সহজ করা এবং চুক্তিতে পৌঁছাতে চাপ দিচ্ছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক মন্তব্য করেনি।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বৃহস্পতিবার বলেন, সামরিক পথ তারা চান না, তবে এসডিএফের বিষয়ে তাদের ধৈর্য “ফুরিয়ে আসছে”। এদিকে কুর্দি কর্মকর্তারা সময়সীমার গুরুত্ব কমিয়ে ন্যায্য একীভূতকরণের লক্ষ্যে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *